Human Question World ব্লগে আজ আমরা জানবো, জীবনের শ্রেষ্ঠ নিয়ম রমজানকে স্বাগত রহমতের মাস শুরুর আগে আমাদের সেরা প্রস্তুতি |
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক। বরকতময় মাস রমজান আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। রমজান শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। তবে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এই মাসের পূর্ণ বরকত পাওয়া কঠিন। তাই আজকে আমরা জানবো রমজান শুরুর আগে আমাদের করণীয় কী।
কেন প্রস্তুতি নেবেন?
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।" (সূরা বাকারা: ১৮৩)
এই আয়াতটি আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, রোজার মূল লক্ষ্য হলো 'তাকওয়া'। আর এই তাকওয়া অর্জনে চাই সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা।
রমজানের সেরা ৫টি প্রস্তুতি:
১. তওবা ও ইস্তিগফার করা: রমজান আসার আগেই বিগত জীবনের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন। পরিচ্ছন্ন মন নিয়ে ইবাদতে মন বসানো সহজ হয়।
২. মানসিক সংকল্প (নিয়ত): এখন থেকেই মনে মনে স্থির করুন যে, এই রমজানে আপনি কোনো ফরজ নামাজ ছাড়বেন না এবং অন্তত একবার হলেও অর্থসহ কোরআন খতম করবেন।
৩. রোজার মাসায়েল জেনে নেওয়া: রোজা ভঙ্গের কারণ, মাকরূহ হবার কারণ এবং সাহরি-ইফতারের সুন্নতগুলো এখনই ঝালিয়ে নিন। অজ্ঞতার কারণে যেন ইবাদতে ত্রুটি না হয়।
৪. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: রমজানে ভাজা-পোড়া খাবার কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরিকল্পনা করুন যাতে শরীর ক্লান্ত না হয় এবং দীর্ঘক্ষণ ইবাদত করা যায়।
৫. অপ্রয়োজনীয় কাজ বর্জন: সোশ্যাল মিডিয়া বা অতিরিক্ত আড্ডা কমিয়ে সেই সময়টা জিকির ও দোয়ায় কাটানোর অভ্যাস এখন থেকেই শুরু করুন।
উপসংহার:
রমজান আসে আমাদের বদলে দিতে, কিন্তু আমরা যদি আগের মতোই থাকি, তবে সেই রমজান আমাদের জন্য ব্যর্থতা। তাই আসুন, প্রস্তুতির মাধ্যমে এই রমজানকে জীবনের সেরা রমজানে রূপান্তর করি।
রমজান প্রশ্ন-উত্তর ও আয়াত
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে... যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।" (সূরা বাকারা: ১৮৩)
প্রশ্ন: রমজানের প্রস্তুতি কেন আগে নিতে হয়?
উত্তর: সাহাবায়ে কেরাম ৬ মাস আগে থেকে রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। আগে প্রস্তুতি নিলে ইবাদতের স্বাদ পাওয়া যায় এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচা সহজ হয়।
প্রশ্ন: শুধু কি না খেয়ে থাকলেই রোজা হবে?
উত্তর: না, খাবারের সাথে সাথে মিথ্যা কথা, গিবত এবং সব ধরণের পাপাচার থেকে বিরত থাকা রোজার অপরিহার্য অংশ।
এই জীবনমুখী আর্টিকেলটি সর্বপ্রথম Human Question World ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে।
— আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন —