ভূমিকা:
Human Question World ব্লগে আজ আমরা জানবো, জীবনের শ্রেষ্ঠ নিয়ম কর্মই ধর্ম কীভাবে একটি নৈতিক |
মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, বরং তার কাজে। আমরা প্রতিদিন হাজারো কাজ করি, কিন্তু তার মধ্যে কয়টি কাজ আমরা নিঃস্বার্থভাবে বা নৈতিকতা মেনে করি? শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা আমাদের শেখায় যে, কেবল কাজ করলেই হয় না, সেই কাজটি হতে হবে 'সৎ' এবং 'অনাসক্ত'। অর্থাৎ, ফলের আশা না করে নিজের দায়িত্বটুকুকে উপাসনা মনে করা।
নিষ্কাম কর্মের শিক্ষা (গীতা ৩.১৯):
গীতার তৃতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্মযোগের চূড়ান্ত গূঢ় রহস্য বলেছেন:
“তস্মাদসক্তঃ সততং কার্যং কর্ম সমাচর। অসক্তো হ্যচরন্ কর্ম পরমাপ্নোতি পুরুষঃ॥” (গীতা ৩.১৯)
সরল অর্থ: অতএব, তুমি আসক্তিহীন হয়ে নিরন্তর নিজের কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করো। কারণ আসক্তিহীনভাবে কর্ম সম্পাদন করেই মানুষ পরম তত্ত্ব বা মুক্তি লাভ করতে পারে।
নৈতিক জীবনধারার গুরুত্ব:
১. দায়িত্ববোধ: আমরা যেখানেই থাকি—ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী—আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের দায়িত্বটুকু সততার সাথে পালন করা।
২. আসক্তি মুক্তি: কাজের ফলাফল ভালো হবে না খারাপ হবে, সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে কাজ করলে কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।
৩. পরম শান্তি: যখন মানুষ কোনো স্বার্থ ছাড়াই পরোপকার বা সৎ কাজ করে, তখন তার হৃদয়ে এক অপার্থিব শান্তি বিরাজ করে।
তিন ভাষায় মূল শিক্ষা:
Bengali: সৎ কাজ করো, নিজের কর্তব্য পালন করো।
English: Do your duty, perform righteous actions.
Arabic: قم بواجبك، وأدِ الأعمال الصالحة.
উপসংহার:
আমাদের জীবন হলো একটি কর্মক্ষেত্র। এখানে আমরা যদি কেবল নিজের স্বার্থ খুঁজি, তবে শান্তি পাব না। কিন্তু আমরা যদি 'গীতা'র এই শিক্ষা মেনে সৎ ও নৈতিক জীবনধারা বেছে নিই, তবে সাফল্য আমাদের চরণে লুটিয়ে পড়বে। আজ থেকেই আপনার প্রতিটি কাজকে ন্যায়ের পথে পরিচালিত করুন।
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এই জীবনমুখী আর্টিকেলটি সর্বপ্রথম Human Question World ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে।
— আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন —