ভূমিকা:
বর্তমান এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে আমরা সবাই নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার আর জীবন নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত যে, পাশের মানুষটির চোখের জল দেখার সময় আমাদের নেই। অথচ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে, বন্দেগি কেবল তসবিহ পাঠে নয়, বরং আর্তমানবতার সেবায় নিহিত। সৃষ্টির প্রতি দয়া দেখানোই হলো স্রষ্টার দয়া পাওয়ার প্রধান শর্ত। আপনি যদি চান আরশের মালিক আপনার প্রতি দয়া করুন, তবে আপনাকে আগে জমিনের মানুষের প্রতি দয়াশীল হতে হবে।
কুরআনের কালজয়ী নির্দেশনা:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। সূরা আন-নিসায় আল্লাহ আমাদের অধিকার ও কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন:
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: “পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত এবং প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করো এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করো।” (সূরা আন-নিসা, ৪:৩৬-এর মূলভাব)
এই আয়াতের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর একটি বিখ্যাত হাদিসে:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৭০)
সহমর্মিতা কেন অপরিহার্য?
১. সমাজের বন্ধন: দয়া ও সহমর্মিতা মানুষের মধ্যে বিভেদ দূর করে এবং একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলে।
২. মানসিক প্রশান্তি: অন্যকে সাহায্য করার পর হৃদয়ে যে প্রশান্তি অনুভূত হয়, তা পৃথিবীর কোনো ধন-সম্পদ দিতে পারে না।
৩. ঈমানের পূর্ণতা: যার হৃদয়ে মানুষের জন্য মায়া নেই, তার ঈমান অপরিপূর্ণ। রাসূল ﷺ বলেছেন, যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে, সে মুমিন নয়।
উপসংহার:
দয়া দেখানো মানে এই নয় যে আপনাকে অনেক ধনী হতে হবে। একটি মিষ্টি হাসি, বিপদে কারো পাশে দাঁড়ানো কিংবা একটু সহমর্মিতা প্রকাশ করাও দয়ার অংশ। আসুন, আমরা আজ থেকে শপথ করি—আমাদের দ্বারা কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায়। আমরা যেন মানুষের বিপদে তার আশ্রয়ের হাত হয়ে উঠতে পারি।