বিবাদ মিটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব: পবিত্র কুরআনের কালজয়ী সমাধান।



ভূমিকা:
বর্তমান পৃথিবীতে শান্তি যেন এক দুর্লভ বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুচ্ছ কারণে মানুষের মধ্যে বিবাদ, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্য এবং সমাজের এক দল অন্য দলের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায় শান্তির পথে চলতে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে। ইসলাম শব্দের অর্থই হলো শান্তি, আর এই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সমঝোতা বা আপোষ করা অত্যন্ত জরুরি।

কুরআনের অমিয় বাণী:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সূরা হুজুরাতে ইরশাদ হয়েছে:

فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا ۖ فَإِن بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَىٰ فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّىٰ تَفِيءَ إِلَىٰ أَمْرِ اللَّهِ ۚ فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا ۖ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
সারমর্ম: "তোমরা তাদের মধ্যে শান্তি ও সমঝোতা স্থাপন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।" (সূরা হুজুরাত, আয়াত: ৯)

অশান্তি থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব:
ইসলামে ফেতনা বা অশান্তি সৃষ্টি করাকে হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যখনই কোনো সমাজে বা দুই ব্যক্তির মাঝে বিবাদ তৈরি হয়, তখন তৃতীয় পক্ষের দায়িত্ব হলো কোনো পক্ষ না নিয়ে ইনসাফের সাথে তাদের মাঝে মিল করে দেওয়া। কুরআন আমাদের শেখায় যে, বিবাদ জিইয়ে রাখা মুমিনের কাজ নয়, বরং দ্রুত ক্ষমা ও সমঝোতার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনাই প্রকৃত বীরত্ব।

কিভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব?
শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হলো ধৈর্য এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতি। আমরা যদি একে অপরের ভুলগুলো ক্ষমা করতে শিখি এবং নিজের ইগো বা অহংকার বিসর্জন দিই, তবেই পরিবার ও সমাজে শান্তি ফিরে আসবে। অশান্তি ও দাঙ্গা কেবল ধ্বংসই বয়ে আনে, আর শান্তি ও ক্ষমা বয়ে আনে আল্লাহর রহমত।

উপসংহার:
আসুন, আমরা নিজেরা শান্তি মেনে চলি এবং অন্যদের মাঝেও শান্তির বার্তা পৌঁছে দেই। যেখানেই অশান্তি দেখবেন, সেখানেই ইনসাফের সাথে মীমাংসা করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, যারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করে, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করবেন।





 

Post a Comment

Previous Post Next Post