বিপদে দিশেহারা? জেনে নিন কেন ধৈর্যই মুমিনের শ্রেষ্ঠ জয়।



ভূমিকা:
মানুষের জীবন অনেকটা জোয়ার-ভাটার মতো। কখনো এখানে আনন্দের জোয়ার আসে, আবার কখনো দুঃখের ভাটা আমাদের গ্রাস করতে চায়। এই চড়াই-উতরাই পাড়ি দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ আমাদের যে সবথেকে বড় অস্ত্র দিয়েছেন, তার নাম হলো 'সবর' বা ধৈর্য। ধৈর্য মানে কেবল মুখ বুজে সহ্য করা নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অটল থাকা।

কুরআনের অমিয় বাণী:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের জন্য বিশেষ পুরস্কার ও মর্যাদার ঘোষণা দিয়েছেন। সূরা আল-বাকারাহতে আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ওপর তাঁর রহমত ও হেদায়েতের কথা উল্লেখ করেছেন:

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: “প্রকৃত বিশ্বাসীরাই ধৈর্যশীল এবং ধৈর্যই তাদের জন্য বয়ে আনে চূড়ান্ত সাফল্য।” (সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৫৭-এর মূলভাব)

ধৈর্যের গুরুত্ব কতটুকু, তা আমাদের প্রিয় নবী ﷺ এর এই ছোট কিন্তু শক্তিশালী হাদিসটি থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “ধৈর্য হলো ঈমান বা বিশ্বাসের অর্ধেক।” (সহিহ তিরমিজি, হাদিস: ২৩৬১)

কেন ধৈর্যই মুমিনের চাবিকাঠি?
১. আল্লাহর সঙ্গ লাভ: আল্লাহ বলেছেন, তিনি ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। এর থেকে বড় পাওনা আর কিছু হতে পারে না।
২. মানসিক দৃঢ়তা: যে মানুষের ধৈর্য আছে, বিপদ তাকে সহজে ভেঙে ফেলতে পারে না। সে জানে, এই সময়টি চিরস্থায়ী নয়।
৩. বিজয় ও রহমত: ধৈর্যের মাধ্যমেই কঠিনতম যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব। এটি কেবল ব্যক্তির জন্য নয়, বরং পুরো জাতির সাফল্যের মূলমন্ত্র।

উপসংহার:
আপনি যদি আজ কোনো কষ্টের মধ্য দিয়ে যান, তবে দমে যাবেন না। মনে রাখবেন, রাত যত গভীর হয়, ভোর তত কাছে আসে। আপনার এই ধৈর্যই আপনার ঈমানকে পূর্ণতা দেবে এবং একদিন আপনাকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাবে।





Post a Comment

Previous Post Next Post