হারানো সম্পদ 'সততা' ফিরে পাওয়ার উপায় কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা।




ভূমিকা:


বর্তমান যুগে আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে টিকে থাকার জন্য বা নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য মিথ্যা বলাকে একটি 'কৌশল' হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আমরা কি জানি, এই ছোট ছোট মিথ্যাগুলো আমাদের চরিত্রকে ভেতর থেকে কতটা অসার করে দিচ্ছে? ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে, সততা কেবল একটি গুণ নয়, বরং এটি ঈমানের অন্যতম ভিত্তি। একজন মুমিন অনেক ভুল করতে পারে, কিন্তু সে কখনো 'মিথ্যাবাদী' হতে পারে না।

কুরআন ও সুন্নাহর অমিয় বাণী:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে সত্যবাদীদের প্রশংসা করেছেন এবং সত্যের ওপর অটল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা আল-আম্বিয়ার মূল সুর হলো—মানুষের কর্ম ও গুণের বিচার হওয়া। সৎ গুণাবলিই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: “সত্যবাদিতা এবং সততা মানুষের জন্য এক মহান মর্যাদা ও গুণ।” (সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:৩৫-এর মূলভাব)

সত্যের গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী ﷺ এর একটি বিখ্যাত হাদিস রয়েছে যা আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমরা সত্যকে আঁকড়ে ধরো, কারণ সত্যবাদিতা ন্যায়ের পথ দেখায় এবং ন্যায় জান্নাতের পথ দেখায়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০২৫)

সততা কেন জরুরি?
১. মানসিক প্রশান্তি: মিথ্যা বললে মন সবসময় ভয়ে থাকে ধরা পড়ার। কিন্তু সত্যবাদী মানুষ সবসময় নির্ভীক থাকে।
২. আমানতদারি: সততা কেবল কথায় নয়, কাজেও। কারো আমানত রক্ষা করা এবং লেনদেনে স্বচ্ছ থাকা সততারই অংশ।
৩. জান্নাতের নিশ্চয়তা: রাসূল ﷺ সত্যবাদিতাকে জান্নাতের পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উপসংহার:
হয়তো সত্য বললে সাময়িকভাবে কোনো লস হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আপনিই বিজয়ী হবেন। আসুন, আমরা আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করি—পরিস্থিতি যাই হোক, আমরা মিথ্যার আশ্রয় নেবো না। আমাদের ছোট একটি সত্য কথা সমাজকে বদলে দিতে পারে।




Post a Comment

Previous Post Next Post