আপনি কি আল্লাহর দয়া চান? তবে আগে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হোন।




ভূমিকা:


আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, এই বিশাল মহাবিশ্ব কোন শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে? তা হলো আল্লাহর অসীম 'রহমত' বা দয়া। আমরা প্রতিদিন আল্লাহর কাছ থেকে হাজারো নেয়ামত ভোগ করছি, তাঁর কাছে দয়া ভিক্ষা করছি। কিন্তু আমরা নিজেরা কি মানুষের প্রতি বা অন্য কোনো প্রাণীর প্রতি দয়াশীল হতে পেরেছি? ইসলাম আমাদের শেখায় যে, সৃষ্টির সেবা করাই হলো স্রষ্টাকে পাওয়ার সংক্ষিপ্ত পথ।

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকচ্ছটা:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন স্থানে মানুষের প্রতি সদাচরণ এবং ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা আন-নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে প্রতিবেশী ও অভাবী মানুষের প্রতি দয়া করার কথা বলেছেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:
“যে ব্যক্তি দয়া ও কল্যাণমূলক কাজ করে, সে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।” (সূরা আন-নিসা, ৪:৩৬ এর মূলভাব)

এর পরিপূরক হিসেবে আমাদের প্রিয় নবী ﷺ এর একটি চমৎকার হাদিস রয়েছে:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “দয়াশীল যারা, পরম দয়াময় আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবেই আসমানের অধিপতি (আল্লাহ) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৭০)

দয়া কেন মুমিনের বৈশিষ্ট্য?
দয়া কেবল অর্থ দিয়ে সাহায্য করা নয়। কারো সাথে হেসে কথা বলা, ক্ষুধার্ত প্রাণীকে খাবার দেওয়া, কিংবা কারো ব্যথায় সমব্যাথী হওয়া—সবই দয়ার অন্তর্ভুক্ত। যখন আপনি কারো প্রতি দয়া দেখান, তখন আপনি আসলে আপনার হৃদয়ের কঠোরতাকে দূর করেন। ইসলামে ইনসাফ বা ন্যায়ের সাথে দয়ার সমন্বয় সমাজকে জান্নাতি পরিবেশে রূপান্তর করে।

উপসংহার:
আসুন, আমরা আমাদের হৃদয়কে পাথর হতে না দেই। ছোট একটি পিপীলিকা থেকে শুরু করে অসহায় মানুষ—সবার প্রতি কোমল হই। মনে রাখবেন, আজকের দেওয়া ছোট একটি দয়া পরকালে আপনার জন্য আল্লাহর অসীম রহমতের দরজা খুলে দেবে।




Post a Comment

Previous Post Next Post