প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি সূরা আল-মুমিনুনের প্রথম ৩ আয়াতের শিক্ষা।



ভূমিকা:

আমরা সবাই জীবনে সফল হতে চাই। কিন্তু সফলতার সংজ্ঞা একেক জনের কাছে একেক রকম। কারো কাছে অনেক টাকা থাকা মানেই সফলতা, কারো কাছে ক্ষমতা। কিন্তু মহাবিশ্বের স্রষ্টা মহান আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন প্রকৃত সফল কারা। পবিত্র কুরআনের ২৩ নম্বর সূরা 'আল-মুমিনুন'-এর শুরুতে তিনি সফল মুমিনদের কিছু মৌলিক গুণাবলি তুলে ধরেছেন।

কুরআনের কালজয়ী নির্দেশনা:
সূরা আল-মুমিনুনের প্রথম ৩ আয়াতে আল্লাহ তাআলা নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের এক অনন্য পথ বাতলে দিয়েছেন:

১. অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে।
২. যারা নিজেদের নামাজে বিনয় প্রকাশ করে।
৩. এবং যারা অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে।
(সুরা আল-মুমিনুন, ২৩: ১–৩)

সফল জীবনের তিনটি ধাপ:
১. অমঙ্গল ও অনর্থক কাজ বর্জন: মানুষ যখন বাজে আড্ডা, মন্দ চিন্তা এবং অর্থহীন কাজ ছেড়ে দেয়, তখন তার জীবন সুশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। এটি নৈতিক জীবনের প্রথম ধাপ।
২. ভালো কাজে নিমগ্ন হওয়া: কেবল মন্দ ছাড়লেই হবে না, বরং নিজেকে আল্লাহর বন্দেগী ও মানুষের উপকারে নিয়োজিত করতে হবে। বিশেষ করে নামাজে একাগ্রতা মানুষের চরিত্র সংশোধন করে।
৩. আল্লাহর প্রতি অবিচল ভরসা: প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা একজন মুমিনকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। সে জানে, ফলাফল যাই হোক, আল্লাহ তার সাথেই আছেন।

কেন এই শিক্ষাটি জরুরি?
আজকের পৃথিবীতে আমরা মানসিক অশান্তি আর নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার। এই আয়াতগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সত্যিকারের বিজয় কেবল সম্পদে নয়, বরং চরিত্রে এবং আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্কের মাঝে নিহিত।

উপসংহার:
আসুন, আমরা আমাদের সময়গুলো অনর্থক কাজে ব্যয় না করে আল্লাহর ইবাদতে এবং জনকল্যাণে ব্যয় করি। এই নৈতিক জীবনই আমাদের দুনিয়াতে শান্তি এবং পরকালে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেবে।




Post a Comment

Previous Post Next Post