ভূমিকা:
মানুষ হিসেবে আমরা ভুল করি, আবার অন্য কেউ আমাদের সাথে অন্যায় করলে আমরা ব্যথিত হই। অনেক সময় আমরা সেই আঘাতের প্রতিশোধ নিতে চাই। কিন্তু প্রতিহিংসার আগুন কখনো শান্তি দেয় না। ইসলাম আমাদের এক অদ্ভুত সুন্দর গুণের কথা বলে, যা মানুষের মর্যাদা আসমানে তুলে দেয়—আর তা হলো 'ক্ষমা'। ক্ষমা কেবল অপরাধীকে মুক্তি দেয় না, বরং ক্ষমা কারী ব্যক্তিকেও দুশ্চিন্তা ও ঘৃণার হাত থেকে মুক্ত করে।
কুরআনের কালজয়ী শিক্ষা:
পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়া ও ক্ষমার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। সূরা আল-আরাফে আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম রহমতের ঘোষণা দিয়ে আমাদের উৎসাহিত করেছেন:
وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ
অর্থ: "আমার দয়া ও রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে।" (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৬-এর অংশ)
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবন ও কুরআনের শিক্ষা থেকে আমরা জানতে পারি—যারা মানুষের প্রতি দয়া করে এবং তাদের ভুলগুলো ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাদের জন্য তাঁর বিশেষ ভালোবাসা ও রহমত বরাদ্দ করেন।
কেন আমরা ক্ষমা করব?
ক্ষমা করা মানে এই নয় যে আপনি দুর্বল। বরং ক্ষমা করা হলো মানসিক শক্তির পরিচয়। যখন আপনি কাউকে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করেন, তখন আপনি আপনার হৃদয়ে এক গভীর প্রশান্তি অনুভব করবেন। ইসলাম আমাদের শেখায়, যদি আমরা আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা আশা করি, তবে আমাদেরও উচিত তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করা। দয়া ও ক্ষমা হলো মুমিনের ভূষণ, যা সমাজকে আরও সুন্দর করে তোলে।
উপসংহার:
রাতের বেলা ঘুমানোর আগে যদি আমরা সবাইকে মন থেকে ক্ষমা করে দিতে পারি, তবে আমাদের ইবাদতে এক অন্যরকম স্বাদ আসবে। আসুন, আমরা মানুষের প্রতি কঠোর না হয়ে দয়াশীল হই। নিজের ভুলগুলোর জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাই এবং অন্যের ভুলগুলো ক্ষমা করে তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করি।