যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হোন, আল্লাহ আপনার নেয়ামত বাড়িয়ে দেবেন।



ভূমিকা:
আমরা কি কখনো গুনে দেখেছি আল্লাহ আমাদের প্রতিদিন কত শত নেয়ামত দান করছেন? আমাদের নিশ্বাস, আমাদের দৃষ্টিশক্তি, আমাদের পরিবার—সবই তাঁর দান। অথচ আমরা যা নেই তা নিয়ে সারাক্ষণ আফসোস করি, আর যা আছে তার কথা ভুলে যাই। ইসলাম আমাদের এক অসাধারণ জীবনদর্শন শিখিয়েছে—আর তা হলো 'শুকরিয়া' বা কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা কেবল একটি ইবাদত নয়, এটি আপনার জীবনে বরকত ও সুখের দরজা খোলার চাবিকাঠি।

কুরআনের অমিয় বাণী:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে কৃতজ্ঞ বান্দাদের জন্য এক মহাপুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। সূরা আল-ইমরানে আল্লাহ মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁদের প্রতিদান সম্পর্কে আশ্বস্ত করেছেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: “যারা আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ হয়, আল্লাহ তাদের নেয়ামত ও বরকত আরও বাড়িয়ে দেন।” (সূরা আল-ইমরান, ৩:১৭-এর মূলভাব ও কুরআনের সাধারণ শিক্ষা)
(দ্রষ্টব্য: কৃতজ্ঞতা নিয়ে সবথেকে বিখ্যাত আয়াত হলো সূরা ইব্রাহিম ১৪:৭— "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি তোমাদের অবশ্যই বাড়িয়ে দেব।")

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস থেকেও আমরা কৃতজ্ঞতার বরকত সম্পর্কে জানতে পারি:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে (ধন্যবাদ জানায়), আল্লাহ তার ওপর বরকত ও নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩১৭)

কৃতজ্ঞতা কীভাবে জীবন বদলে দেয়?
১. অভাব দূর হয়: কৃতজ্ঞ মানুষের মনে কোনো অভাব থাকে না। সে অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকে, আর এই সন্তুষ্টিই তাকে ধনী করে তোলে।
২. মানসিক শান্তি: আপনি যখন আপনার প্রাপ্তিগুলোর দিকে তাকাবেন, তখন আপনার সব বিষণ্ণতা দূর হয়ে যাবে।
৩. নেয়ামতের স্থায়িত্ব: কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আল্লাহ সেই নেয়ামত কেড়ে নেন না, বরং তা চিরস্থায়ী করেন।

উপসংহার:
আসুন, আজ অভিযোগ করা বন্ধ করি। প্রতিদিন অন্তত ১০টি জিনিসের তালিকা করি যার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। মুখে বলি 'আলহামদুলিল্লাহ' এবং মনে তা অনুভব করি। মনে রাখবেন, আল্লাহ অভিযোগকারীদের চেয়ে কৃতজ্ঞদের বেশি ভালোবাসেন।



Post a Comment

Previous Post Next Post