কেন ইসলামে নৈতিকতা ও পরোপকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?



ভূমিকা:
একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নৈতিকতা, পরোপকার এবং ন্যায়বিচার। আধুনিক বিশ্বে আমরা যখন হানাহানি আর বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন, তখন পবিত্র কুরআন আমাদের দেখায় মানবতার এক অনন্য পথ। কুরআন কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং এটি মানুষের অধিকার রক্ষা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এক চিরন্তন সংবিধান।

কুরআনের মূল শিক্ষা:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নৈতিকতা এবং জনকল্যাণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। কুরআনের মূল চেতনা হলো— মানুষের সেবা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:
“যে কোনো মানুষের সাথে ন্যায়পরায়ণ হোন এবং আল্লাহর জন্য কল্যাণমূলক কাজ করুন।” (সূরা আল-বাকারা: ২১৭-এর মূলভাব)

(দ্রষ্টব্য: এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তাআলা কল্যাণের পথে অটল থাকতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন।)

মানবিকতা ও সহানুভূতি:
ইসলাম কেবল ইবাদতের নাম নয়, বরং এটি সৃষ্টির সেবার নাম। কুরআন আমাদের শেখায় যে, একজন প্রকৃত মুমিন কখনোই অন্য মানুষের প্রতি অন্যায় করতে পারে না। সে হবে দয়ালু, সহানুভূতিশীল এবং অন্যের বিপদে সহায়ক। যখন সমাজে প্রতিটি ব্যক্তি অন্যের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, তখনই সেখানে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ন্যায়বিচার ও সমাজ ব্যবস্থা:
কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, ন্যায়বিচার হবে সবার জন্য সমান— সে ধনী হোক বা গরীব, আপন হোক বা পর। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকাই হলো কুরআনের শিক্ষা। এই ইনসাফই সমাজ থেকে জুলুম আর বৈষম্য দূর করার একমাত্র উপায়।

উপসংহার:
আসুন, আমরা আমাদের জীবনে কুরআনের এই নৈতিক শিক্ষাগুলো ধারণ করি। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা, ন্যায়ের পথে চলা এবং সাধ্যমতো অন্যের উপকার করাই হোক আমাদের লক্ষ্য। তবেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকামী সমাজ উপহার দিতে পারব।





Post a Comment

Previous Post Next Post