নিজের বিরুদ্ধে গেলেও কি সত্য বলবেন? কুরআনের এক বৈপ্লবিক নির্দেশ।



ভূমিকা:
পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা অনেক সময় নিজের স্বার্থ বা প্রিয়জনের মোহে পড়ে সত্য গোপন করি। ইসলাম আমাদের এমন এক উচ্চতর নৈতিকতা শেখায়, যেখানে সত্য ও ন্যায়ের স্থান সবার উপরে—এমনকি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের চাইতেও বড়।

কুরআনের অমোঘ বিধান:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে প্রতিটি মুমিনের জন্য ফরজ বা আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সূরা আন-নিসায় আল্লাহ বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ
অর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষী হও; এমনকি যদি তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধেও যায়।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৩৫)

নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া বলতে কী বোঝায়?
অধিকাংশ মানুষ তখনই সত্য বলে যখন তা তার নিজের পক্ষে থাকে। কিন্তু ইসলাম বলে, যদি কোনো অপরাধ আপনার দ্বারাও সংঘটিত হয়, তবে তা স্বীকার করা এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকাই হলো প্রকৃত ঈমানদারি। একইভাবে আপনার বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজন যদি ভুল করে, তবে সত্যের খাতিরে তাদের বিরুদ্ধেও সাক্ষ্য দিতে আপনি পিছপা হবেন না।

কেন এই কঠোর নির্দেশ?
সমাজে যখন কোনো অপরাধী তার সম্পর্কের জোরে বা ক্ষমতার প্রভাবে পার পেয়ে যায়, তখন সেই সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। ইসলাম চায় এমন এক সমাজ, যেখানে ধনী-দরিদ্র, আপন-পর সবার জন্য আইন ও ইনসাফ হবে সমান। এই ইনসাফই একজন মানুষকে আল্লাহর কাছে প্রিয় করে তোলে।

উপসংহার:
ন্যায়বিচার করা কেবল আদালতের কাজ নয়, এটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ। সত্য বলা এবং ন্যায়ের পথে অটল থাকা কঠিন হতে পারে, কিন্তু এর পুরস্কার আল্লাহর কাছে অপরিসীম। আসুন, আমরা সত্যের সাক্ষী হই এবং একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে ভূমিকা রাখি।


 



Post a Comment

Previous Post Next Post