ইসলামে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব: কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা।



ভূমিকা:
পৃথিবীতে মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায় যে, আমরা এখানে উদ্দেশ্যহীনভাবে আসিনি। আমাদের প্রতিটি কথা এবং কাজের জন্য পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব।

পবিত্র কুরআনের শিক্ষা:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ন্যায়বিচারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। সূরা আল-হুজুরাতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে মীমাংসা করি এবং কোনো অবস্থাতেই জুলুম না করি।

“যদি মুমিনদের দুই দল লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও... অবশ্যই আল্লাহ ন্যায়বিচারকদের ভালোবাসেন।” (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৯)

এই আয়াতটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে যেকোনো পরিস্থিতিতে ন্যায়ের পথে অটল থাকা ঈমানের দাবি।

হাদিস শরীফের নির্দেশনা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মতদের সবসময় দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেউ তার কাজের দায়ভার অন্যের ওপর চাপাতে পারবে না।

সহিহ বুখারির একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ২৪০৯/৩৭৬১ এর সারমর্ম)

আমাদের করণীয়:
১. নিজের ভুল স্বীকার করার মানসিকতা তৈরি করা।
২. সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হওয়া।
৩. অন্যের ওপর অন্যায় না করা এবং অন্যায় হতে দেখলে সাধ্যমতো বাধা দেওয়া।

উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, একজন প্রকৃত মুসলিম কখনোই দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারে না। কুরআন ও হাদিসের এই শিক্ষাগুলো যদি আমরা আমাদের জীবনে ধারণ করি, তবে আমাদের জীবন যেমন সুন্দর হবে, তেমনি পরকালেও আমরা সফল হব।

IslamQuran and HadithResponsibilityJusticeইসলামিক জীবন বিধানন্যায়বিচার






Post a Comment

Previous Post Next Post