ভূমিকা:
একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় কী? তার পদবি, অঢেল সম্পদ নাকি তার ক্ষমতা? ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে, মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি এগুলো নয়। বরং একজন মানুষ অন্যের জন্য কতটা কল্যাণকর, তার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় সে আল্লাহর কাছে কতটা প্রিয়। পরোপকার বা অন্যের উপকার করা কেবল একটি মানবিক কাজ নয়, এটি একটি উচ্চতর ইবাদত যা সরাসরি আল্লাহর সন্তুষ্টি বয়ে আনে।
কুরআনের অমিয় বাণী:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সফল মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে সৎ কাজে প্রতিযোগিতার কথা বলেছেন। সূরা আল-মুমিনুনে আল্লাহ ইরশাদ করেন:
أُولَٰئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ
অর্থ: “তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারা তাতে অগ্রগামী হয়।” (সূরা আল-মুমিনুন, ২৩:৬১)
অর্থাৎ, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালো কাজে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তারাই প্রকৃত সফল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ঘোষণা:
শ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়ার সবথেকে সহজ সূত্রটি দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী ﷺ। সহিহ বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে মানুষের উপকার করে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৭৫-এর প্রেক্ষাপট ও মূলভাব)
(দ্রষ্টব্য: বিখ্যাত হাদিস 'খাইরুন নাসি মান ইয়ানফাউন্নাস' এই ভাবার্থকেই পূর্ণতা দেয়)
কেন উপকার করবেন?
১. আল্লাহর সাহায্য লাভ: হাদিসে এসেছে, আপনি যতক্ষণ আপনার ভাইয়ের উপকারে নিয়োজিত থাকবেন, ততক্ষণ স্বয়ং আল্লাহ আপনার উপকারে নিয়োজিত থাকবেন।
২. হৃদয়ের বিশালতা: পরোপকারী মানুষের মনে কোনো হিংসা বা সংকীর্ণতা থাকে না। সে সবার জন্য বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে বাঁচে।
৩. জান্নাতের পথ সহজ হওয়া: মানুষের উপকার করা জান্নাতে যাওয়ার পথকে প্রশস্ত করে দেয়।
উপসংহার:
আসুন, আমরা নিজের জন্য বাঁচার পাশাপাশি অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি। খুব বড় কিছু করার দরকার নেই; ছোট ছোট ভালো কাজ, যেমন—কাউকে সঠিক পথ দেখানো, তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো কিংবা কারো বিপদে একটু সান্ত্বনা দেওয়াও আপনাকে 'শ্রেষ্ঠ মানুষ' হিসেবে কবুল করাতে পারে।