ভূমিকা:
ইসলাম কেবল নামাজ, রোজা আর তসবিহ পাঠের নাম নয়; বরং ইসলাম হলো একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যেখানে সৃষ্টির সেবা বা আর্তমানবতার সেবাকে ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ করা হয়েছে। আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা দরিদ্র, এতিম এবং নিপিড়ীত মানুষের দুঃখ-কষ্টে এগিয়ে আসা কেবল দয়া নয়, বরং এটি একজন সামর্থ্যবান মুমিনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব।
কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা দান-সদকাহ এবং দরিদ্রদের অধিকার নিয়ে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। সূরা আল-বাকারাহর বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: “যারা দরিদ্র ও অভাবীদের সাহায্য করে, তারা মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।” (সূরা আল-বাকারাহ, ২:২৭৯-এর মূলভাব ও দানের গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে)
সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ এই মানবিক কাজকে ঈমানের সাথে যুক্ত করেছেন:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “দরিদ্র, অসহায় ও নিপিড়ীত মানুষের সহায়তা করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭১৯)
কেন অসহায়ের পাশে দাঁড়াবো?
১. সম্পদ পবিত্র করা: আপনার উপার্জিত সম্পদে দরিদ্রের অধিকার রয়েছে। জাকাত ও সদকাহ প্রদানের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র ও বরকতময় হয়।
২. আল্লাহর সাহায্য লাভ: রাসূল ﷺ বলেছেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তাকে সাহায্য করতে থাকেন।
৩. সামাজিক ইনসাফ: ইসলাম চায় এমন এক সমাজ যেখানে কেউ না খেয়ে থাকবে না। আর্তমানবতার সেবা সমাজ থেকে বৈষম্য ও অপরাধ কমিয়ে আনে।
উপসংহার:
আপনার অতিরিক্ত সম্পদ কারো কাছে হয়তো বেঁচে থাকার স্বপ্ন। আসুন, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবীদের পাশে দাঁড়াই। হতে পারে আপনার ছোট একটি দান কারো জীবন বদলে দেবে এবং হাশরের ময়দানে আপনার মুক্তির উপায় হবে।